ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর বাংলা বিজয়ের ইতিহাস আলোচনা কর।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর বাংলা বিজয়ের ইতিহাস আলোচনা কর।
অথবা, বখতিয়ার খিলজীর বঙ্গ বিজয় সংক্ষেপে আলোচনা কর।
অথবা, বখতিয়ার খিলজীর বঙ্গ বিজয় সংক্ষেপে আলোচনা কর।
উত্তর: সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকালে বখতিয়ারের বাংলা বিজয় আমাদের ইতিহাসের গতি পরিবর্তনকারী এক স্মরণীয় ঘটনা। এসময় বাংলার রাজধানী ছিল গৌড় এবং নদীয়া, ছিল দ্বিতীয় রাজধানী। তবে নদীয়া আক্রমণের তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও তবকাত-ই-নাসিরিতে বলা হয়েছে বিহার বিজয়ের পরের বছর তিনি নদীয়া অভিযানে আসেন। আধুনিক ঐতিহাসিক ড.আব্দুল করিম এ মতে সায় দিয়ে ১২০৪ সালকে নদীয়া আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করেছেন এবং হাসান নিজামীর মতে ১২০৩ সালে বখতিয়ারের বিহার জয়ের বর্ণনা দিয়েছেন।
বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের ধারা: বখতিয়ারের বাংলা আক্রমণের সময় লক্ষ্মণ সেন দ্বিতীয় রাজধানী নদীয়াতে ছিলেন। নদীয়া ছিল গঙ্গা তীরের এক তীর্থস্থান। তেলিয়াগড়ের দক্ষিণে বাংলার পশ্চিম সীমান্তের গভীর জঙ্গল থেকে তার বাহিনী নিয়ে নবদ্বীপের ২০ মাইল উত্তর থেকে সকালে যাত্রা শুরু করে দুপুর নাগাদ বখতিয়ার দ্রুতগতির কারণে মাত্র ১৮ জন সাহসী যোগ্য সঙ্গীকে নিয়ে নদীয়া পৌঁছে যান। তার অন্যান্য অনুসারীরা পিছনে পিছনে আসতে থাকে। বখতিয়ারের নেতৃত্বে ১৮ জনের প্রথম দলটি জাঁকজমকহীনভাবে ধীরে নিশ্চিন্তে অনেকটা বিদেশি বণিকদের মতো ঘোড়া বিক্রেতার ন্যায় নগরের দ্বার প্রান্তে প্রবেশ করে অকস্মাৎ আক্রমণ করে বসেন। ঠিক এ সময়ে তার অশ্বারোহী বাহিনীর দ্বিতীয় দলটি নগরের দ্বারপথে প্রবেশ করছিল এবং তৃতীয় দলটিও ঠিক এর নাগালের মধ্যে এসে পড়েছিল। ভারতীয় প্রথা অনুযায়ী প্রাতঃকালীন রাজদরবার শেষে সবাই মধ্যাহ্ন ভোজ ও সিস্তা পালনে ব্যস্ত ছিল। ফলে এ দৈব আক্রমণে রাজার সৈন্যরা হতবিহ্বল হয়ে পড়ে এবং প্রতি আক্রমণে সাহস হারিয়ে ফেলে।

সহজ বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url