ধর্মীয় সহনশীলতা কি | ধর্মীয় সহনশীলতা বলতে কি বুঝ ব্যাখ্যা কর

ধর্মীয় সহনশীলতা কি | ধর্মীয় সহনশীলতা বলতে কি বুঝ ব্যাখ্যা কর

উত্তর : ভূমিকা : একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বাঙালির মনের কেন্দ্রে আছে ধর্ম। হিন্দু-মুসলমান সব সম্প্রদায়ের জন্যই একথা প্রযোজ্য। বাঙালি আবহমানকাল থেকে বিভিন্ন ধর্মের লোকের সাথে অত্যন্ত সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। হিন্দু- মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, শিখ-জৈন প্রভৃতি বিভিন্ন ধর্মের লোকের আচার-আচরণ, রীতিনীতি আজ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

ধর্মীয় সহনশীলতা কী : নিজ ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক হলেও অন্য ধর্মকে মেনে নেয়ার মানসিকতাই হলো ধর্মীয় সহনশীলতা। ধর্ম ও সংস্কৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অর্থাৎ ধর্ম সংস্কৃতিকে যেমন প্রভাবিত করে। সংস্কৃতিও তেমনি ধর্মকে প্রভাবিত করে, প্রাচীনকালে এ ভূখণ্ডে হিন্দু, মুসলমান বা বৌদ্ধ ছিল না; ছিল অনার্য, জৈন, আজীবিক, বৌদ্ধ এবং তারপর বৈদিক প্যাগান ধর্মের আবির্ভাব হয়। নীহার রঞ্জন রায় যথার্থই বলেছেন, “প্রাক-আর্য জানা বৌদ্ধ ধর্ম বিশ্বাস ও অনুষ্ঠান ব্রাহ্ম্য ধর্মের নানা মত, পথ ও অনুষ্ঠান, বৌদ্ধ ধর্ম, জৈন ধর্ম প্রভৃতি নানা আদর্শ ও আচার উচ্চকোটি ও লোকায়ত স্তরের বাঙালি। জীবনে প্রচলিত ছিল।” বাঙালি বিভিন্ন সময় সমন্বয় ও সহনশীলতার যে চর্চা করে এসেছে, বিভিন্ন কারণে তার মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টাও হয়েছে কিন্তু বাঙালি উদারনৈতিকতা ও সহনশীলতা দিয়ে সেই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাঙালি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতার লাল সূর্য।

উপসংহার : সবশেষে বলা যায় যে, বাঙালি জাতি সেই সুপ্রাচীনকাল থেকে যেমন বিভিন্ন ধর্মের সাথে সমন্বয় করে বসবাস করে এসেছে, বর্তমানেও তেমনি হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ- খ্রিস্টান প্রভৃতি ধর্মের সাথে সমন্বয় করে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। আর এ কারণেই এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-আচরণ সংস্কৃতি ইত্যাদির উপর সহনশীল মনোভাব পোষণ করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সহজ বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url