দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কি বুঝ।
দ্বি জাতি তত্ত্ব কি/ দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কি বুঝ।
- দ্বিজাতি তত্ত্ব কি?
- দ্বি জাতি তত্ত্ব কি?
- দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কি বুঝ।
- দ্বিজাতি তত্ত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর।
- জিন্নার দ্বি জাতি তত্ত্ব কি
- দ্বি জাতি তত্ত্ব বলতে কি বোঝায়
- দ্বিজাতি তত্ত্ব কি ব্যাখ্যা করো
উত্তর : ভূমিকা : মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষিত দ্বি-জাতি তত্ত্বই পাকিস্তানের মূলভিত্তি । এক জাতি-এক রাষ্ট্র'-এ মতবাদ বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকেই জনমর্থন লাভ করতে থাকে। | “হিন্দু-মুসলমান দুটি পৃথক জাতি' -এ নীতির ভিত্তিতে জিন্নাহ মুসলমানদের যে পৃথক জাতিসত্তার দাবি করে তাই দ্বি-জাতি তত্ত্ব নামে পরিচিত।
— দ্বি-জাতি তত্ত্ব : ১৯৩৭ সালে ভারতে স্বায়ত্তশাসন কার্যকর হলেও মুসলমানরা উপেক্ষিত হতে থাকে। এমন অবস্থায় ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে জিন্নাহ মুসলমান ও হিন্দুদের জাতিসত্তা সম্পর্কে যে তাত্ত্বিক ভাবধারা বিশ্লেষণ করেন তাই দ্বি-জাতি তত্ত্ব নামে পরিচিত। এ ভাষণে জিন্নাহ বলেন, 'যেকোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মুসলমানরা একটা জাতি। তাই তাদের একটি পৃথক আবাসভূমি প্রয়োজন, প্রয়োজন একটা ভূ-খণ্ডের এবং একটা রাষ্ট্রের।' জিন্নাহ তার দ্বি-জাতি তত্ত্বের পক্ষে নিম্নোক্ত যুক্তি পেশ করেন-
১. ভারত একটি দেশ নয়, বরং একটি উপমহাদেশ ।
২. যে ভিত্তিতে এ মহাদেশে হিন্দুরা একটি জাতি, সে ভিত্তিতে মুসলমানরাও একটি জাতি।
৩. মুসলমানদের ভাষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, নৈতিক বিধান, আচার ব্যবহার, ইতিহাস, ঐতিহাসিক হিন্দুদের থেকে ভিন্ন।
৪. হিন্দু-মুসলিম জনগণ অনুপ্রেরণা লাভ করে ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে। অতএব আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞায় আমরা একটি জাতি । জিন্নাহর এ তত্ত্বই দ্বি-জাতি তত্ত্ব।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতের মুসলমানরা একটা পৃথক জাতি । এটি দ্বি-জাতি তত্ত্বের একটা মূল বক্তব্য। এ দ্বি-জাতি তত্ত্বই হলো ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের মূল ভিত্তি। | এদিক থেকে বিবেচনা করলে দ্বি-জাতি তত্ত্বের গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী।

সহজ বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url