সম্রাট অশোকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।



 সম্রাট অশোকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও

 অথবা, অশোক কে ছিলেন? তাঁর পরিচয় লিপিবদ্ধ কর।

উত্তরঃ খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে অশোকের সিংহাসন লাভ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি ছিলেন মহান ও উদার সম্রাট। অশোকের আদর্শ ছিল প্রজাদের ইহজাগতিক এবং পারলৌকিক উন্নতি বিধান। রাজ কর্তব্য সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল অতি উচ্চ। পৃথিবীর রাজতন্ত্রের ইতিহাসে রাজ কর্তব্যের এত মহান আদর্শ ও বাস্তব জীবনের মধ্যে এত সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্য বিধান আর কোনো রাজা করতে পেরেছিলেন কি না তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। তিনি মানবতার কল্যাণসাধন, প্রজাহিতৈষী ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন।

অশোক সম্পর্কে জানার উৎস: অশোক সম্পর্কে অথবা অশোকের রাজত্বকাল সম্পর্কে অশোকের শিলালিপি থেকে যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়। অশোকের শিলালিপিকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: ক. পর্বতগাত্রে খোদিত শিলালিপি; খ. পর্বতগাত্রে খোদিত ক্ষুদ্র শিলালিপি ও গ. স্তম্ভলিপি।

অশোকের প্রাথমিক জীবন: বিন্দুসারের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র অশোক ২৭৩ অব্দে মগধের সিংহাসনে আরোহণ করেন। তবে সিংহাসনে বসার আগে সম্রাট অশোক তাঁর পিতার আদেশে উজ্জয়িনীতে শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তক্ষশীলায় প্রজা বিদ্রোহ দেখা দিলে তাঁকে তক্ষশীলার শাসনকর্তা হিসেবে প্রেরণ করা হয় এবং অশোক সহজেই সে বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উত্তর ভারতীয় কিংবদন্তি অনুসারে অশোকের মায়ের নাম ছিল সুভাদ্রাঙ্গী। আবার দক্ষিণ ভারতীয় কিংবদন্তি অনুসারে তাঁর মাতার নাম ছিল ধর্মা। কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেন যে, অশোকের মা ছিলেন বিন্দুসারের পত্নী। তবে এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোন প্রমাণ নেই। এলাহাবাদ লিপি থেকে জানা যায় যে, অশোকের একাধিক পত্নী ছিল। তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল দেবী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ছিল করুবকী।অশোকের পুত্রসংখ্যা সম্পর্কে সঠিক কিছু জানা যায়নি। তবে তার কয়েকজন পুত্রের নাম পাওয়া যায়। তারা হলোঃ তীব্র, কুনাল, জলেকি, মহেন্দ্র প্রমুখ। অনেকের মতে মহেন্দ্র ছিলেন অশোকের ভাই। সিংহলি উপাখ্যান থেকে জানা যায় যে, পিতার মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসার পর সম্রাট অশোক তাঁর ভাইদের সাথে দারুণ গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হন এবং তিনি সিংহাসনকে নিষ্কণ্টক করার জন্য ১৯ জন ভাইকে হত্যা করেন। এজন্য পণ্ডিতরা অশোককে 'চন্দ্রাশোক' বলতো। গৃহযুদ্ধের কারণেই অশোক সিংহাসনে বসার চার বছর পরে তার অভিষেক হয়। ড. ভাণ্ডারকর প্রমুখ ঐতিহাসিক বলেন যে, সিংহাসনে বসার ৪বছর পরে অশোকের অভিষেক হয় একথা সত্য। তবে এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

অশোকের, ষষ্ঠ শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, অবসর সময়ে অশোক অন্তঃপুরে অথবা খাদ্যগৃহে সময় কাটাতেন অথবা পরিবারের লোকদের সাথে কথা বলতেন। আবার অষ্টম শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি বিহার যাত্রায় যোগ দিতে ভালোবাসতেন এবং সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার আগে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অনুসারী ছিলেন।

           পরিশেষে বলা যায় যে, সম্রাট অশোক স্বীয় কৃতিত্বের মাধ্যমে বিশাল এক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল। তাঁর অসামান্য অবদানের কারণে তাঁর শাসনামল ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সহজ বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url