রাজা সমুদ্রগুপ্তের পরিচয় দাও।


রাজা সমুদ্রগুপ্তের পরিচয় দাও।
উত্তর: গুপ্ত সাম্রাজ্য তথা প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ নৃপতি এবং প্রতিভাবান শাসক। তিনি পিতা চন্দ্রগুপ্ত এর মৃত্যুর পর সম্ভবত ৩২০ খ্রিষ্টাব্দের কিছু পরে সিংহাসন আরোহণ করেন। তাঁর পিতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন একটি ক্ষুদ্র সাম্রাজ্যের অধিপতি। কিন্তু সিংহাসনে আরোহণের পর সমুদ্রগুপ্ত স্বীয় প্রতিভাবলে এ ক্ষুদ্র রাজ্যকে একটি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। তিনি শুধু দিগ্বিজয়ী বীরই ছিলেন না. তিনি ছিলেন একাধারে সুশাসক, সুকবি, রাজনীতিবিদ এবং উদার ধর্মাবলম্বী। তবে দিগ্বিজয়ী রূপে তিনি বিশ্বের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বীরদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা এবং রাষ্ট্রীয় আধিপত্যের বিস্তৃতি লক্ষ্য করে ঐতিহাসিক স্মিথ সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতের নেপোলিয়ান' বলে অভিহিত করেছেন।
     সমুদ্রগুপ্ত: সমুদ্রগুপ্ত আনুমানিক ৩৩০ খ্রিষ্টাব্দে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন। সমুদ্রগুপ্ত এর এলাহাবাদ প্রশস্তির চতুর্থ স্তবক থেকে সমুদ্রগুপ্ত এর সিংহাসন আরোহণ সম্পর্কে জানা যায়। তাছাড়া গয়া ও নালন্দা লিপি থেকে সমুদ্রগুপ্ত সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। প্রথমে তাঁর নাম ছিল কচ এবং রাজ্যজয়ের পর তিনি সমুদ্রগুপ্ত নাম ধারণ করেন। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে রাজ্য বিজেতারূপে যে কয়েকজন সম্রাট খ্যাতি লাভ করেছেন সমুদ্রগুপ্ত তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছেন। উত্তর বা দক্ষিণ ভারতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। মৌর্যদের পতনের দীর্ঘদিন পরে তিনিই সমগ্র ভারতে এক অখণ্ড সার্বভৌম রাজশক্তি স্থাপন করেন। তিনি আনুমানিক ৩৩০-৩৮০ | খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। সমুদ্রগুপ্ত চন্দ্রবর্মাকে পরাজিত করে পশ্চিম ও দক্ষিণ বাংলা দখল করেছিলেন। ভারতের বাকি অঞ্চলসহ ভারতবর্ষের বাইরেও অনেক রাজ্য তাঁর করদ রাজ্য ছিল। সমুদ্রগুপ্তের সামরিক অভিযানের সাফল্য এবং বিভিন্ন জায়গায় রাজ্যবিস্তৃতি লক্ষ্য করে ঐতিহাসিক স্মিথ তাঁকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' বলে আখ্যা দিয়েছেন। সুতরাং একথা বলা যায় যে, সমুদ্রগুপ্ত শুধু দিগ্বিজয়ী বীরই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সুযোগ্য শাসক, সংগীতজ্ঞ এবং বিদ্যোৎসাহী।
     উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, সমুদ্রগুপ্ত গুপ্ত বংশের এক গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি হিসেবে ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছেন। এ জন্য তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সহজ বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url