বাংলায় গুপ্ত শাসনের পরিচয় দাও
বাংলায় গুপ্ত শাসনের পরিচয় দাও।
উত্তর: গুপ্ত যুগের প্রাপ্ত লিপিমালা থেকে গুপ্ত শাসনাধীনে বাংলার শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট জানা যায়। নিচে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
শুপ্ত শাসন: গুপ্ত সম্রাটগণ বাংলাদেশে তাদের অধিকারভুক্ত সমগ্র এলাকা নিজেদের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে রাখেননি। কিছু কিছু অংশে মহাসামন্তদের শাসন বিরাজমান ছিল। মহাসামন্ত শাসক ও মহাসামন্ত বিজয় সেনের নাম এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।
যে অঞ্চল সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে ছিল সে অঞ্চলে কতকগুলো সুনিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক ভাগ দেখা যায়। সর্ববৃহৎ বিভাগটির নাম ছিল 'ভুক্তি'। 'ভুক্তি' কে বর্তমান কালের প্রশাসনিক বিভাগ বলে ধরা যেতে পারে। একটি বিভাগের যেমন কয়েকটি জেলা থাকে তেমনি ভুক্তির অধীনে কয়েকটি 'বিষয়' থাকতো। 'বিষয়' এর অধীনে সপ্তক 'বীথি' ও গ্রাম থাকতো। প্রায় সমগ্র উত্তর বাংলা জুড়ে অবস্থিত ছিল প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত ভুক্তি 'পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তি'
ভুক্তির বিষয় বা বীথির শাসনকার্য পরিচালিত হতো নিজ নিজ শাসন কেন্দ্রে অবস্থিত অদিকরণের মাধ্যমে। অধিকরণ অর্থ সরকারি কার্যালয়। এসব অধিকরণের কর্মপদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না।
গুপ্তযুগের তাম্রশাসনসমূহ পর্যালোচনা করলে একথাই বলা যায়, স্থানীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তি করে শাসনকার্য পরিচালনা করা হতো এবং প্রশাসনিক ব্যাপারে সার্বক্ষণিক পরামর্শদানের জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিদের শাসনকার্যে সম্পৃক্ত করা হতো।
পরিশেষে বলা যায় যে, প্রাচীন যুগের বাংলার শাসনব্যবস্থা সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে তা নিতান্তই অপ্রতুল। বিস্তারিত জানার কোনো উপায় নেই।
সহজ বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url