প্রাচীন বাংলার সীমানা উল্লেখ কর।
প্রাচীন বাংলার সীমানা উল্লেখ কর।
অথবা, প্রাচীন বাংলার ভৌগোলিক চিত্র উপস্থাপন কর। (খ)
উত্তর: বাংলাদেশ বলতে আমরা যে এলাকা এখন বুঝি প্রাচীনকালে বাংলাদেশ বলতে এমন কোনো একক বা অখণ্ড রাজ্য ছিল না। এদেশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট রাজ্য বা জনপদে বিভক্ত ছিল। রাজশক্তির হ্রাস বৃদ্ধির ফলে এসব জনপদের সীমানা ও বিস্তৃতি বার বার পরিবর্তিত হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক সীমানা এক রকমই থেকেছে। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলার চারদিকে সুস্পষ্ট সীমারেখা বিরাজমান ছিল। প্রাচীন বাংলার সীমা সম্পর্কে ড. নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালির ইতিহাস' গ্রন্থে লিখেছেন, উত্তরে হিমালয় এবং তার পার্শ্বে নেপাল, সিকিম ও ভুটান রাজ্য। উত্তর পূর্বদিকে ব্রহ্মপুত্র নদ ও উপত্যকা: উত্তর-পশ্চিম দিকে দ্বারবঙ্গ পর্যন্ত ভাগীরথীর উত্তর সমান্তরালবর্তী সমভূমি, পূর্বদিকে গারো, খাসিয়া-জৈন্তিয়া-ত্রিপুরা- চট্টগ্রাম শৈলশ্রেণী বেয়ে দক্ষিণে সমুদ্র পর্যন্ত: পশ্চিমে রাজমহল, সাঁওতাল পরগনা, ছোটনাগপুর, মালভূম, ধলভূম, কেওঞ্জর, ময়ূরভঞ্জের অরণ্যময় মালভূমি, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এই প্রাকৃতিক সীমারেখার মধ্যেই প্রাচীন বাংলার গৌড়, পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, রাঢ়, সূক্ষ্ম তাম্রলিপ্তি, সমতট, বঙ্গ, বঙ্গাল, হরিকেল প্রভৃতি জনপদ। এরই মাঝে ছিল ভাগীরথী, করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, মেঘনা এবং অসংখ্য নদনদীতে ঘেরা বাংলার গ্রাম, নগর, প্রান্তর, পাহাড়, আর অরণ্য।
পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলার মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে বাংলার মানুষ যেমন কিছুটা হলেও রক্ষা পেয়েছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ অভ্যাস ও চরিত্র গঠনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে

সহজ বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url