কৈবর্ত বিদ্রোহ কী? কখন এই বিদ্রোহ হয়েছিল?
কৈবর্ত বিদ্রোহ কী? কখন এই বিদ্রোহ হয়েছিল?
অথবা, কৈবর্ত বিদ্রোহ বলতে কী বুঝ?
অথবা, কৈবর্ত বিদ্রোহ কী? কৈবর্ত বিদ্রোহের কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : তৃতীয় বিগ্রহপালের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র দ্বিতীয় মহিপাল পাল সিংহাসনে বসেন। তাঁর সিংহাসন আরোহণের পূর্বে পাল সাম্রাজ্য বৈদেশিক আক্রমণে খণ্ডবিখণ্ড হয়। পূর্বের শাসকদের মতো দ্বিতীয় মহীপালের তেমন যোগ্যতা ছিল না। এ কারণে তাঁর শাসনামলে বরেন্দ্রভূমির সামন্তরা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেছিল এবং কৈবর্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
দ্বিতীয় মহীপালের প্রধান ঘটনা উত্তর বাংলায় কৈবর্ত সামন্তদের বিদ্রোহ। এ বিদ্রোহ ইতিহাসে 'বরেন্দ্র বিদ্রোহ' নামেও খ্যাত। কৈবর্ত বিদ্রোহের নায়ক ছিলেন কৈবর্ত সামন্ত দিব্য। সন্ধ্যাকর নন্দীর 'রামচরিত' থেকে এ সম্পর্কে বহু তথ্য পাওয়া যায়। দিব্য ছিলেন পালরাজ দ্বিতীয় মহীপালের একজন উচ্চ রাজকর্মচারী। তৃতীয় বিগ্রহপালের জীবিতকালে বা তার মৃত্যুর পরেই উত্তরবঙ্গে কৈবর্তরা বিদ্রোহে অবতীর্ণ হন। বিদ্রোহের নায়ক দিব্য দ্বিতীয় মহীপালের কুশাসন থেকে দেশ রক্ষা করার জন্য বিদ্রোহ করে, মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্রে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। দিব্য উত্তরাংশ দখল করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এক্ষেত্রে মনে হয় তাঁর সাথে উত্তর বাংলার সামন্ত চক্রের সাথে গোপন সম্পর্ক ছিল। দিব্যের মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতা রুদ্রোক ও তাঁরপর রুদ্রোকের পুত্র ভীম বরেন্দ্র শাসন করেন। ভীমের শক্তি ও সমৃদ্ধির ব্যাপক রামচরিতে প্রশংসা রয়েছে।
সুতরাং বলা যায় যে, দিব্য দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করে পাল সাম্রাজ্যে কিছুদিন রাজত্ব করার সুযোগ পেলেও তিনি নিশ্চিন্তে রাজ্যভোগ করে যেতে পারেননি। তারপরও বলা যায়, নিঃসন্দেহে দিব্য শক্তিশালী নৃপতি ছিলেন এবং বরেন্দ্রভূমিকে একটি শক্তিশালী অঞ্চলে পরিণত করতে সমর্থ হয়েছিলেন।

সহজ বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url