সম্রাট আকবরের ধর্মনীতির পরিচয় দাও।
সম্রাট আকবরের ধর্মনীতির পরিচয় দাও।
উত্তর : মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষের ইতিহাসে সম্রাট আকবর একজন শ্রেষ্ঠ বিজেতাই ছিলেন না, একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসকও ছিলেন। একজন শাসক হিসেবে আকবর ধর্মীয় প্রশ্নেও উদার ও সহিষ্ণুতার নীতি অবলম্বন করেন। তিনি সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে যথার্থই উপলব্ধি করেন যে, জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীর আনুগত্য ও স্বতস্ফূর্ত সহযোগিতা ছাড়া শক্তিশালী মুঘল সাম্রাজ্য গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ উদ্দেশ্যেই আকবর সর্বপ্রথম মুসলিম শাসকদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সমন্বয় করতে যত্নবান হন। রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা ছাড়াও আকবর ছিলেন সত্যানুসন্ধানী। ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ জানবার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন। ঐতিহাসিক বদায়ুনী আকবরের ধর্মীয় চিন্তাধারা সম্পর্কে বলেছেন, "আকবর প্রায়ই ভোর বেলায় রাজপ্রাসাদের কাছে পুরাতন ভবনের সামনে একটি বিরাট চেপ্টা পাথরের উপর বসে মাথা বুকের উপর হেলিয়ে ধ্যানে নিমগ্ন থাকতেন এবং ভোরের পরম আনন্দ উপভোগ করতেন।" একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, আধ্যাত্মিক পিপাসাই আকবরকে সকল ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞানলাভ এবং সকল ধর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধনে অনুপ্রাণিত করেছিল।

সহজ বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url